Sightseeing

শীতলক্ষ্যা নদী ও শীতলক্ষ্যা সেতুতরগাঁও ইউনিয়নের অনেক গুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে । যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলঃ
(ক) শীতলক্ষ্যা নদীঃ তরগাঁও ইউনিয়নের তিন পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী এক অপরূপ সৌন্দয্যের প্রতীক । নদীর ধারে কয়েক মিনিট বসলে নদীর শীতল বাতাসে ক্লান্তি জুড়ায় । নদীর ধারের ফুটে থাকা  সাদা সাদা কাশ ফুল মনকে প্রফুল্ল করে ।
(খ) শীতলক্ষ্যা সেতুঃ কাপাসিয়া ও তরগাঁও এই দুই ইউনিয়নের মধ্যে সেতু বন্ধন । এর আরেক নাম ফকির মজনু শাহ সেতু । এই সেতু  এক অপার সৌন্দয্যের প্রতীক ।
(গ) পালকীঃ অবসর সময় কাটানো, চিত্তবিনোদন রুপ নগর পালকি । বাঁশের মাচাঁর উপর পানির উপরে বসার স্থান । চারপাশে ফুল বাগান , সবুজ ঘাস ।

অবস্থান:
কাপাসিয়া ও তরগাঁও এই দুই ইউনিয়নের মধ্যে
Dhadhar Chor 1

ধাঁধার চর

নদীর মাঝে ধাঁধার চর বিন্দু বিন্দু বালি জমে হঠাৎ জেগে ওঠা এক চরের গল্প। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যাকে মেলানো এই অদ্ভুত চরের গল্প শোনাচ্ছেন মো. মনির হোসেন নদীর প্রতি ঘনিষ্ঠতা ও মায়া বাড়াতেই নদী পরিব্রাজক দলের নদীর পানে যাত্রা। বলা হয়, বাংলাদেশকে প্রায় আড়াই প্যাঁচে আবৃত করে আছে ব্রহ্মপুত্র নদ। বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই নদের একটি শাখা নদী শীতলক্ষ্যা। এটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাত-আট কিলোমিটার পূর্ব দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়েছে। শীতলক্ষ্যার খ্যাতি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানির জন্য। এখানেই রয়েছে নৌকা আকৃতির এক বিশাল চর, নাম ধাঁধার চর। অনেকে বলে মাঝের চর। কারণ এ চরটি লাখপুর, তারাগঞ্জ, রানীগঞ্জ ও চরসিন্দুরের মাঝখানে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা নদীর বুকে জেগে ওঠা এ চরটির আয়তন প্রায় আড়াইশ’ একর। দূর থেকে দেখলে এ চরটিকে অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতো মনে হয়, কারও কারও মনে হতে পারে এ যেন ডুবে যাওয়া টাইটানিকের জেগে ওঠা। ধাঁধার চরের অবস্থানটাও বেশ ধাঁধাঁ লাগানো। চরের উত্তর- দক্ষিণে শীতলক্ষ্যা নদী, পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ। দু’ দিকে দুই থানা_ কাপাসিয়া ও শিবপুর। দু’পাশে দুই জেলা গাজীপুর ও নরসিংদী। বর্ষা মৌসুমে দুটি নদীই থাকে গর্ভবতী। জলে টইটম্বুর। শীতকালে এটি হয়ে ওঠে আরও মনোরম, আরও মনোলোভা। স্থানীয় তারাগঞ্জ, লাখপুর, রানীগঞ্জ ও চরসিন্দুরের মাঝখানে এ চরকে দেখলে মনে হয় ভাসমান টাইটানিক গ্রাম। এ চরটি লম্বায় ৪ কিলোমিটার, চওড়ায় বর্ষায় আধা কিলোমিটার। শীতকালে আরও বিস্তৃত হয়। আনুমানিক ২০০ বছর আগে জেগে ওঠা এই চর স্থানীয়রা কেউ কেউ বলেন মাঝের চর। কারণ এটি ব্রহ্মপুত্র নদ ও শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। একসময় এই চরের নাম-নিশানা ছিল না। ছিল বহমান নদী। তারপর আস্তে আস্তে বিন্দু বিন্দু বালুকণা জমতে জমতে বেলেমাটিতে পূর্ণ হয়ে একসময় যখন চর জেগে ওঠে, তখন স্থানীয় লোকজন এটি দেখে ধাঁধায় পড়ে যান। সেই থেকে এর নাম ধাঁধার চর।