বংশী নদীর ইতিহাস | গাজীপুর

0
10

বংশী নদী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এই নদীর মোট দৈর্ঘ্য ১৮৪ কিলোমিটার। উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ফলে এই নদী কার্যত পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখানদীতে পরিণত হয়েছে। উজানের দিকে এটি কেবল বর্ষাকালে নাব্য থাকে। তবে ঢাকা ও গাজীপুর অংশে নদীটি সারা বছরই নাব্য।
গাজীপুর জেলার পশ্চিম প্রান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত বংশী নদী। এ নদীর তীরে অবস্থিত কালিয়াকৈর বাজার ও বন্দর। বংশী নদী যমুনা থেকে উদ্ভুত হয়ে ময়মনসিংহ জেলার পাশ দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গাজীপুর জেলার পশ্চিম সীমানায় প্রবেশ করে ।
সেখান থেকে কালিয়াকৈরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাজারের নিকট পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে ঢাকা জেলার ধলেশ্বরী নদীতে মিশে যায় ।
গারগারা
এই নদী মধুপুর জঙ্গলের টিলা শ্রেণির ‘দেওয়া’ নামক স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে দক্ষিণে ও পরে দক্ষিন-পুর্বে এসে বিশাল বিল লবলং-এ এসে পতিত হয় । আবার মাওনার নিকট লবলং থেকে বেরিয়ে পুনরায় ইন্দ্রাকপুরের নিকট লবলং-এ এসে পতিত হয় । শীতকালে নদীটি প্রায় শুকিয়ে যায় । তবে বর্ষাকালে এর আঁকাবাঁকা স্রোতধারা গাজীপুরের শাল অরণ্যের ভিতরে অপরূপ দৃশ্যের জন্ম দেয়।
বংশী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২৩৮ কিলোমিটার। এই নদী চারটি জেলা যথাক্রমে জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা এবং ১০টি উপজেলা যথাক্রমে জামালপুর সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতি, বাসাইল, মির্জাপুর, সখিপুর, কালিয়াকৈর, ধামরাই, সাভার এবং ৩২১টি মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তুরাগ বংশী নদীর শাখা তুরাগ নদী । তুরাগ সর্পিলভাবে কালিয়াকৈর বাজারের নিকট বংশী-ঘাটাখালি মোহনা থেকে উদ্ভুত হয়ে প্রথমে কিছুটা পুর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ঠেঙ্গেরবান্দ, কড্ডা ও টঙ্গী পৌঁছে দুটো শাখায় বিভক্ত হয় । একটি শাখা ঢাকার মিরপুরের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে মিলিত হয় । অন্যটি টঙ্গী খাল হিসেবে উত্তরে এসে পুনরায় তুরাগ নদীর সঙ্গে মিলিত হয় । এর দক্ষিণ শাখা তুরাগ নামে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ।
এখানে দিক পরিবর্তন করে কহরদিয়া নামে প্রায় দুই কিলোমিটার পুর্ব দিকে প্রবাহিত হয় ।
পরে তা বালু নামে পুর্বমুখী হয়ে উলুখোলা ও ডেমরার পাশ দিয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে পড়ে । ঠেঙ্গেরবান্দের নিকট শালদহ নদী তুরাগের সঙ্গে মিলিত হয় ।
জানা যায়, ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকার নবাবদের ‘তুরাগ’ নামক বজরায় বুড়িগঙ্গায় অবস্থান করেন ।
গোয়ালী
গোয়ালী নদী ফুল্বাড়িয়ার উত্তরে বাজাইল শাহাড়ীরচালা থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে ছোট খাল হিসেবে ফুলঝুড়ি নদী নামে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রবাহিত হয় ।
সেখান থকে এই খালের ধারা ক্রমশ বড় হয়ে গোয়ালী নামে দক্ষিণে পাগলনাথ, রাওয়াল বিল, গাছবাড়ি বিল, শালদহ বিল, বেড়াচালা বিল ও শ্রীপুর বিলের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়ে রঘুনাথপুরের দক্ষিণে তুরাগ নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।

তথ্য সংগ্রহঃ উইকিপিডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here